শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্পট মার্কেটের দামে সামিটের এলএনজি

প্রকাশিত : 10:58 AM, 4 August 2022 Thursday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ করতে চায় দেশের বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কোম্পানি সামিট গ্রুপ। পেট্রোবাংলার কাছে কোম্পানিটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, সামিট যে দামে দিতে চায়, তা এখনকার খোলাবাজারে (স্পট মার্কেট) বিক্রীত এলএনজির দামের প্রায় সমান। যেখানে এখন স্পট মার্কেটে দর বেশি বলে সরকার সরাসরি এলএনজি কেনা বন্ধ রেখেছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪২০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২৩৫ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে গ্যাস আমদানি শুরু করে সরকার। কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আনা হয়।

চাহিদার একাংশ কেনা হয় স্পট মার্কেট থেকে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি এলএনজি সংগ্রহে ১৬ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি রয়েছে পেট্রোবাংলার। তবে গেল কয়েক মাসে দাম বেড়ে যাওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে সরকার আপাতত এলএনজি কেনা বন্ধ রেখেছে। এখন মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে (এফএসআরইউ)। এ দুটি পরিচালনা করছে দেশীয় কোম্পানি সামিট ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি। সামিটের নিজের সাতটি এবং শেয়ার রয়েছে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে। সব মিলিয়ে বর্তমানে সামিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। টার্মিনাল পরিচালনার পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহেও আগ্রহী সামিট গ্রুপ। গত মাসে কোম্পানিটি ১৫ বছর ধরে এলএনজি সরবরাহের জন্য একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে পেট্রোবাংলায়।

প্রস্তাবে চার ধাপে বিভিন্ন দর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০২৩ সালের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ (ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) এলএনজির দর ধরা হয়েছে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দামের ৩৫.১৪ শতাংশের সঙ্গে দশমিক ৪ মার্কিন ডলার। গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ১০০ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম হবে ৩৫.৫৪ মার্কিন ডলার। যেখানে স্পট মার্কেটেই দাম এখন ৩৭ মার্কিন ডলার। কাতার ও ওমানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সরকার যে এলএনজি কিনছে, তাতে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের দাম ৮০ ডলার থাকলে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়ে ১০ মার্কিন ডলার। ক্রুড অয়েল ১২০ ডলারে উঠলে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি ১৫ ডলার পড়ে।

সর্বশেষ গত জুনে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে যে এলএনজি কিনেছিল, তার দাম পড়েছিল ২৫ ডলার। সামিট ২০২৪ সালের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের ২৬.৮৬ শতাংশের সঙ্গে দশমিক ৪ মার্কিন ডলার যুক্ত করে প্রতি ইউনিট এলএনজির দরপ্রস্তাব করেছে। ২০২৫ সালের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের ২০.৫১ শতাংশের সঙ্গে দশমিক ৪ মার্কিন ডলার যুক্ত করে প্রতি ইউনিট এলএনজি বিক্রি করতে চায় সামিট। ২০২৬ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের ১৩.১৩ শতাংশের সঙ্গে দশমিক ৪ মার্কিন ডলার যুক্ত করে এলএনজি বিক্রির প্রস্তাব করেছে সামিট। খাত-সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলোর বিশ্নেষণ বলছে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে।

আগামীতে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান বাজারদর অনুসারে সামিটের প্রস্তাবিত দর অনেক
বেশি, প্রায় স্পট মার্কেটের সমান, যা সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। সামনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আসছে। কাতার ২০২৬ সালের পর দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস দিতে চেয়েছে। ফলে এত বেশি দামে এলএনজি কেনা উচিত হবে না। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সঠিক তত্ত্বাবধান ও সময়মতো অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে গেলে এলএনজি আমদানির প্রয়োজন হতো না।

সেখানে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থে গ্যাসের ঘাটতি দেখিয়ে এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। এ খাতে প্রতিবছর ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে সামিটের কাছ থেকে যদি আরও বেশি দামে কেনা শুরু করে, তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, এটি একটি প্রাথমিক প্রস্তাব। তাই এখনই মন্তব্য করা উচিত হবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT