সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভুলে ভোগান্তি ॥ পাসপোর্টে

প্রকাশিত : 12:05 PM, 21 September 2022 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

পাসপোর্টে ভুল দু’রকম হয়। প্রথমত, আবেদনপত্রে গ্রাহকের ভুল। দ্বিতীয়ত, গ্রাহক ঠিক থাকলেও অফিসের ভুল। ভুল যে কারণেই হোক, দায়ভার চাপানো হয় গ্রাহকের ওপর। টাকা গচ্চা যায় গ্রাহকেরই। পাসপোর্ট অফিসের ভুলের দায় অফিস নিচ্ছে না। এতে ভোগান্তির শিকার এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে অনেককেই। রাজধানীর আগারগাঁওসহ দেশের প্রতিটি পাসপোর্ট অফিসেই এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে আবেদনকারী বা গ্রাহককেই।

ভুলের সংখ্যা অবশ্য আগের চেয়ে অনেকটাই কমে আসছে বলে দাবি করছেন পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানিয়েছেন, এক সময় হাতে লিখে পাসপোর্ট দেয়া হতো। তখন গ্রাহক ও অফিস উভয়ের কারণেই ভুল হতো। তারপর এসেছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)। তখনও কিছু ভুল-ভ্রান্তি হতো। এখন হচ্ছে ই-পাসপোর্টের যুগ। সব কাজই করেন আবেদনকারী নিজে। তিনি যেভাবেই আবেদন করেন, ঠিক হুবহু সেভাবেই প্রিন্ট হয় বই। এখানে ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও ভুল হয়েই যায়, তবে সেটা হাজারে একটা বা দুটা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতের লেখার যুগ, এমআরপির যুগ পেরিয়ে বর্তমানে ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করলেও ভুল থেকেই যাচ্ছে। গ্রাহকের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, নতুন পাসপোর্ট করতেও যত লাগে, ভুল সংশোধন করতেও ততই লাগে। এক পয়সাও কম নেয়া হয় না। কোন দেশেই এমন নিয়ম নেই। সবচেয়ে বেশি ভুল হয় আগের পাসপোর্ট ও এনআইডির মধ্যে মিল না থাকায়। নতুন নিয়মে পুরনো পাসপোর্টে বিদ্যমান নাম,বাবার নাম, মায়ের নাম এবং জন্ম তারিখ পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর এ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে এখানে। অনেকেরই দেখা যাচ্ছে, পুরনো পাসপোর্টের নামের সঙ্গে এনআইডির নাম মিলছে না। জন্ম তারিখের তারতম্য ঘটছে। তখন এনআইডি অনুযায়ী পাসপোর্টের নাম সংশোধন না করে বলা হচ্ছে, এনআইডি সংশোধন করার জন্য।

এনআইডি সংশোধন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পাড়তে হচ্ছে গ্রাহককে। আবার এনআইডি সংশোধন করে আনার পরও সেটা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সংশোধিত এনআইডির পরিচয়পত্র আকারে কপি চাওয়া হচ্ছে। অথচ, সার্ভারে কিন্তু এনআইডি সংশোধিত আকারে আছে। আবার এসব সংশোধন করতে গিয়ে এতসব কাগজপত্র জোগাড় করতে বলা হচ্ছে যে, সেসব জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাগজ জোগাড় করতে আদালত পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। এর একটা সুরাহা হওয়া উচিত। এনআইডি থাকার পর এত কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তা পুনরায় বিবেচনা করা দরকার। পাসপোর্ট পেতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয় সাধারণ মানুষ। অথচ, তারাই দুর্ভোগের শিকার হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করে বিদেশে গিয়ে দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছে।

তাই এই সাধারণ মানুষের পাসপোর্টপ্রাপ্তি সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার জন্য আলাদা সেল করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকে। গত সপ্তাহে আগারগাঁও অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে হাসান নামের এক দালাল নিজেকে গ্রাহক দাবি করে জানিয়েছেন, পাসপোর্টের আবেদন করতে যতটা ভোগান্তি, সংশোধন করতেও ততটাই ভোগান্তি। প্রবাসীদের জন্য এটা আরও বেশি। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও একই সমস্যা। আগের পাসপোর্টের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মিল না থাকায় দেরি হচ্ছে পাসপোর্ট পেতে। আর দেরিতে পাসপোর্ট পাওয়ায় অনেকেরই ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বৈধতার সুযোগ পেয়েও শুধু যথাসময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ায় অবৈধই রয়ে যাচ্ছেন অনেকে। ইতালি, ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশেও এই সমস্যা। মাহমুদ নামের অপর এক আবেদনকারীর অভিযোগ, তার পাসপোর্টে একটা ‘ইউ’-এর স্থলে ‘ও’ ছাপা হয়ে গেছে। অফিসের ভুলের দায়ভার এখন তাকে নিতে হচ্ছে।

এই ভুল করার কথা স্বীকারই করছে না পাসপোর্ট অফিস। এমনকি, আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ করারও কোন সুযোগ নেই এই অফিসে। বাধ্য হয়েই তাকে নতুন করে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে আগের মতোই ফি জমা দিয়ে সংশোধন করতে হয়েছে পাসপোর্ট। খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, মাহমুদের মতো এমন শত শত ভুক্তভোগীর দেখা মিলে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে। তাদের একজন মনসুর আলী বলেন, ‘খেসারত শূুুধু একমুখী নয়। একদিকে তাদের ভুলও তারা স্বীকার করে না, দায়ও নেয় না। আবার সংশোধন করতে গেলেও টাকা লাগছে নতুন পাসপোর্টের মতোই। অর্থাৎ ছোট্ট একটা অক্ষরের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে, নতুন করে পাসপোর্ট পাওয়ার মতোই ভোগান্তিতে। এটা যে, কারও কাছে গিয়ে নালিশ জানিয়ে প্রতিকার চাইব, সে সুযোগও নেই সাধারণ মানুষের জন্য। যারা নামী-দামী ভিআইপি-সিআইপি তারা গিয়ে তো সরাসরি ভেতরে ঢুকে কর্তাদের টেবিলে বসেই সব ঠিক করে নেয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT