সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অনিয়মে জর্জরিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের

ভিসি, অপসারণের সুপারিশ

প্রকাশিত : 03:27 PM, 10 August 2022 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে ২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি যোগ দেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হলে সরকার তাকে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ দেয়। দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে আসতে থাকে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ। তদন্ত করে সেসব অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ভিসির অপসারণসহ বেশকিছু সুপারিশও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের হেনস্তা, নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতিসহ রয়েছে বেশকিছু অভিযোগ। এছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত একাধিক অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি ইউজিসি থেকে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে উপাচার্যের দেওয়া সব নিয়োগ-পদোন্নতি বাতিলের। একই সঙ্গে উপাচার্য আহসান উল্লাহকে অপসারণেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে উপাচার্য দাবি করেন, প্রশ্ন তৈরির জন্য এসব শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে যত অভিযোগতদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিসি হওয়ার পর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় ও স্বজনপ্রীতি করেছেন আহসান উল্লাহ। সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন তার নিজের এলাকা চট্টগ্রাম থেকে। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে গিয়ে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করেছেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই দিয়েছেন নিয়োগ। আবার যাদের নিয়োগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। আর ৫-১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে কর্মচারীদের থেকে। ৫২ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ১১২ জনকে। এছাড়া বাড়িভাড়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, তার অপসারণে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি

এসব অনিয়মে উপাচার্যকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন ভিসির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার আবু হানিফ। এছাড়া সিন্ডিকেট সদস্য ও ভবানীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. হাসান মাসুদসহ আরও কয়েকজন উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ বলে তাকে দ্বিতীয় দফায় সিন্ডিকেট সদস্য করা হয়।

এদিকে প্রথম দফায় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে হয় এ তদন্ত।

এরপর দ্বিতীয় দফায় তদন্ত করে ইউজিসি। সেখানেও সত্যতা মেলে অভিযোগের। এ তদন্ত কমিটিতে ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ্রসহ পাঁচ সদস্য ছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইন অনুযায়ী ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকে গড়ে তোলা হলেও অপ্রয়োজনে উপাচার্যের পছন্দের বেশ কয়েকজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানতে চাইলে প্রশ্ন মডারেটর ও প্রণয়নের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন উপাচার্য।

এছাড়া নিয়মে নেই এমন অধীনস্থ মাদরাসায় বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়া হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এর আগে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন সাব্বির আহমেদ মমতাজী। তার সংশ্লিষ্টতায় মূলত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হন আহসান উল্লাহ। মমতাজীর বিরুদ্ধেও নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ক্ষমতাবলে তিনি নিজের ছেলে-মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এসব অভিযোগেরও প্রমাণ পেয়েছে ইউজিসি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT