সোমবার ২৭ জুন ২০২২, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি শরণার্থী কত জানে না কেউ

প্রকাশিত : 02:33 PM, 20 June 2022 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

যুদ্ধ, নির্যাতন, মামলা-হামলার মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে শরণার্থীর সংখ্যা। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। মোট শরণার্থীর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাও কম নয়। তবে বিশ্বে শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ ২০ জুন বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করা হয়। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ইউএনএইচসিআরের বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজ ঠিকানা ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা ২০২১ সালের শেষে এসে দাঁড়িয়েছে আট কোটি ৯৩ লাখ (ইউক্রেন যুদ্ধের আগ পর্যন্ত)।

এই সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় ৮ শতাংশ এবং দশ
বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি। এই মানুষদের দুই কোটি ৭১ লাখ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী এবং পাঁচ কোটি ৩২ লাখ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ (ঘর ছেড়ে পালালেও যাঁরা নিজ দেশে অবস্থান করছেন)। আশ্রয়প্রার্থীরা ভেনিজুয়েলা, আফগানিস্তান, শাদ, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের। ইউএনএইচসিআর তথ্য বলছে, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪২ লাখ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছে পকিস্তানে, প্রায় ১৫ লাখ। এর পরই বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশে ৯ লাখ ১৮ হাজার ৯০০ শরণার্থী রয়েছে। সবচেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছে তুরস্কে, ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ জন। শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে ওপরের দিকে আরও রয়েছে সুদান, জার্মানি, উগান্ডা ও কলম্বিয়া। এদিকে, প্রতিবছর হাজার হাজার তরুণ।

অবৈধভাবে স্থল পথ বা সাগর পথে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশ ঘটে ভূমধ্যসাগর দিয়ে। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। ইউরোপে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি শরণার্থী রয়েছে ইতালিতে। এ ছাড়া গ্রিস, অস্ট্রিয়া, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের সীমান্তে শত শত বাংলাদেশি শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু দেশের কোনো সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছেও বাংলাদেশি শরণার্থীদের প্রকৃত সংখ্যার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চারটি উইংয়ের প্রধান, অভিবাসী-শরণার্থী নিয়ে কাজ করা দেশি-বিদেশি এনজিও এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে খোঁজ নিয়ে কোনো তথ্য মেলেনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করা সংগঠন ফ্রন্টেক্সের তথ্যমতে, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালিতে প্রবেশ করতে গিয়ে ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। ইনসিডিন বাংলাদেশের এ কে এম মাসুদ আলী বলেন, উন্নত জীবনের আশায় বা বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন দেশে অনেক বাংলাদেশি আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে এ নিয়ে তথ্য পাওয়া খুব একটা সহজ নয়। সরকারি ও দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর এ নিয়ে কাজ করা উচিত।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT