সোমবার ২৭ জুন ২০২২, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নাজাতের জন্য দোয়া ও ক্ষমাপ্রার্থনা

প্রকাশিত : 02:54 PM, 17 June 2022 Friday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

দোয়া কবুলের জন্য মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষের সামনে পাপমুক্তি ও ক্ষমাশীলতা অর্জনের পথ অবারিত করে দেয়। আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া লাভ করে মানুষ পাপমুক্ত হয়ে সৌভাগ্যবান হতে পারে। ইফতারের আগে, সেহিরর আগে ও পরে, তাহাজ্জুদ নামাজের সমাপনান্তে আল্লাহর কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তা কবুল করেন। সাধারণ সময় ছাড়াও এ সময়গুলোয় বেশি বেশি করে দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা, তওবা, ইস্তেগফার, দরুদ শরিফ, তাসবিহ, তাহলিল প্রভৃতি জিকরের মাধ্যমে দিন অতিক্রম করা অত্যন্ত জরুরি। তাই আল্লাহর দরবারে পাপমুক্তির জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে নিজের দুই হাত সম্প্রসারণ করা উচিত। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক জিনিসের মরিচা পরিষ্কার করার যন্ত্র আছে আর অন্তরের মরিচা পরিষ্কার করার যন্ত্র হলো আল্লাহর জিকর।’ (বায়হাকি) আল্লাহর কাছে পাপমুক্তির জন্য এমনভাবে দোয়া করতে হবে যেন নিজেদের অন্তর পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। মুসলমানেরা যেন সুস্থ থেকে রমজান মাসের রোজাগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, সে জন্য সব সময় আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া ও ইস্তেগফার করতে হবে, ‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে তুমি পছন্দও করো, অতএব আমাকে ক্ষমা করো।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের নিদ্রা ইবাদততুল্য, চুপ থাকা তাসবিহ-তাহলিলতুল্য, আমল-ইবাদত সওয়াব হাসিলে বেশি অগ্রগণ্য, দোয়া কবুলযোগ্য ও তার গুনাহ ক্ষমার যোগ্য।’ (বায়হাকি)
আল্লাহর জিকর মানবজীবনে অমূল্য সম্পদ। যে রোজাদার আল্লাহর জিকর করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং তিনি আল্লাহর অফুরন্ত রহমত থেকে বঞ্চিত হন না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘অনন্তর তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব আর তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো এবং অকৃতজ্ঞ হোয়ো না।’ (সূরা আল বাকারা, আয়াত: ১৫২) রমজান মাসে বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমাপ্রার্থনা সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসে তোমরা চারটি কাজ অধিক পরিমাণে করো, তন্মধ্যে দুটি কাজ এমন, যা দ্বারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা যাবে। অন্য দুটি এমন, যা থেকে তোমরা মুখাপেক্ষীহীন হতে পারবে না। প্রথম দুটি হলো ১. বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-এর জিকর করা; ২. আল্লাহর কাছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর যে দুটি কাজ না করে আমাদের কোনো উপায় নেই তা হলো ১. জান্নাত চাওয়া, ২. জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া। মাহে রমজানের রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা, আত্মসমালোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রভৃতি ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকার চেষ্টা করা উচিত—এটা তাকওয়া অর্জনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। মানুষের সামনে শেষ দশক এমন একটা সুবর্ণ সময় যে আল্লাহ তাআলা রোজাদারদের গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন জীবন লাভ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মসমালোচনা ও আত্মোপলব্ধিতে মানুষ যখন পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তখন আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন ও গুনাহখাতা মাফ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা (মাহে রমজানে) প্রতিটি রাতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে আসেন এবং ডেকে বলেন, ‘কে আছে এমন যে আমার কাছে নিজের গুনাহ মাফ চাইবে আর আমি মাফ করে দেব।’ (বুখারি ও মুসলিম) রোজাদার দিনে রোজা রেখে রাত জেগে জিকর-আজকার, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও তাহাজ্জুদ নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার কারণে তাঁর দোয়া কবুল হয়। রোজার মাধ্যমে নিজেকে পুরস্কার, সম্মান, দয়া, অনুগ্রহসহ আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের উপযুক্ত করে তোলেন। একপর্যায়ে রোজাদার আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে গণ্য হন। তাই রোজাদার দোয়া ও ইস্তেগফার করে আল্লাহর কাছে যা চান, তিনি সে প্রার্থনা কবুল করেন। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘রোজা শুধু আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।’ (বুখারি ও মুসলিম) রোজাদারদের ওপর যেন সর্বদা আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে, সে জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা দরকার। অপরাধী যখন অনুশোচনায় সিক্ত হয়, অন্যায় ও অপরাধকর্ম থেকে বিরত হওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পাপমুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে হাজির হয়, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের দোয়া কখনো ফেরত দেওয়া হয় না। ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া, জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের দোয়া, বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত মুসাফিরের দোয়া।’ (তিরমিজি) আল্লাহর দরবারে রোজাদারের মর্যাদা অনেক বেশি। কিয়ামতের দিনও রোজাদারকে সাদরে গ্রহণ করা হবে। জান্নাতের একটি দরজা আছে, যার নাম ‘রাইয়্যান’, এ দরজা দিয়ে একমাত্র রোজাদার প্রবেশ করবে। তাই রমজান মাসের শেষ দশকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও রজনীর সঙ্গে সব সময় আমাদের আল্লাহর জিকর, দোয়া, ইস্তেগফার ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকতে হবে। কেননা, আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্যই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। মানুষ যত পাপই করুক না কেন, লজ্জিত-অনুতপ্ত হয়ে এবং ভবিষ্যতে কখনো পাপ না করার দৃঢ়সংকল্প নিয়ে তওবা করে চোখের তপ্ত অশ্রু ফেলে ইস্তেগফার করলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই ক্ষমা করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সিজদায় বান্দা তার প্রভুর অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে। তাই তোমরা অধিক দোয়া করো।’ (মুসলিম) নবী করিম (সা.) এমন মানুষের জন্য আক্ষেপ করেছেন, যারা মাহে রমজান জীবনে পেয়েও গুনাহ থেকে মুক্ত হতে পারেনি। তাই আমরা যেন ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলে নামাজ, রোজার হুকুম-আহকাম সম্পূর্ণভাবে পালন করে বেশি বেশি দোয়া ও ক্ষমাপ্রার্থনার মাধ্যমে মাহে রমজানের অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভ করতে পারি, আল্লাহ পাক আমাদের সেই তাওফিক দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ ও দাওয়াহ বিভাগ, ধর্মবিজ্ঞান অনুষদ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT