সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চাল আমদানি নিয়ে চলছে চালবাজি

প্রকাশিত : 11:34 AM, 21 September 2022 Wednesday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি নিয়ে চলছে চালবাজি। ৩০ জুন সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন নিলেও নির্ধারিত সময়ে এলসি খোলেনি আমদানিকারক সিন্ডিকেট। উলটো চালের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাজারে তৈরি করেছে অস্থিরতা। বাড়িয়েছে দাম। এ অবস্থায় সরকারকে চাপে ফেলে ২৮ আগস্ট আমদানি শুল্ক মওকুপ ও রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ শতাংশের জায়গায় ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের পর চাল আমদানির গতি বাড়িয়েছে সিন্ডিকেট হোতারা। এরপরও বাজারে চালের দাম কমেনি। ফলে কম শুল্কে চাল এনে বাড়তি দামে বিক্রি করে ক্রেতার পকেট কাটছে তারা।

মানুষকে জিম্মি করে অনৈতিক এই ব্যবসা চললেও রহস্যজনক কারণে চালবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ভোক্তাদের প্রশ্ন-তাদের কাছে কি অসহায় সরকারও। বিশ্লেষকরা বলেছেন, চালের বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যখন যেভাবে চাচ্ছে সেভাবেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। এতে সাধারণের কোনো লাভ না হলেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হচ্ছে। আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কঠোর জবাবদিহিতায় আনা না গেলে চালের দাম কমানো সম্ভব না। বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল সিন্ডিকেটের অসাধু সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আল মদিনা রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যারা মিলার তারাই আমদানিকারক। তাদের সিন্ডিকেটের কারণে সব সময় চালের দাম বেড়ে যায়।

সময় ও সুযোগ বুঝে তারা মূল্য কারসাজি করে থাকে। গুটি কয়েক আমদানিকারকের কাছে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং ভোক্তা-সবাই জিম্মি। যাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তারাও নীরব।’ জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘বেসরকারি পর্যায়ে যে চাল আমদানি করা হয়েছে তাতে দামে কোনো প্রভাব পড়েনি। যেটুকু প্রভাব পড়েছে তা ওএমএস-র চালে। যারা অনুমোদন নিয়েও চাল আমদানি করেনি বা এলসি খোলেনি তাদের নতুন করে আর বরাদ্দ দেওয়া হবে না। তাদের ব্যবসার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বরাদ্দ নেওয়ার পরও যারা চাল আনছে না তাদের আইআরসি সাসপেন্ড করার ব্যাপারে শিগগিরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে নিজেদের কোম্পানির নামে বস্তাজাত করে চাল আমদানির কোনো সুযোগ নেই। এটা কেউ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলার সুযোগ আছে।’ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জুনের এক আদেশে বেসরকারি পর্যায়ে নন-বাসমতি সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য ৯৫টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪ লাখ ৯ হাজার টনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT