সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আন্দোলন দমাতে পেটুয়া বাহিনী নামিয়েছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত : 06:39 AM, 19 September 2022 Monday

গণঅধিকার নিউজ ডেস্কঃ

বিএনপির আন্দোলন দমাতে আওয়ামী লীগ পেটুয়া বাহিনী নামিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজধানীর মিরপুরসহ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির কর্মসূচীতে হামলার প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। সমাবেশ চলাকালে ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইলের নাইটিংগেল মোড় পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এ কারণে ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফখরুল বলেন, মিয়ানমার
আমাদের দেশের সীমান্তে গোলা নিক্ষেপ করছে। এখানে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের তারা গুলি করে মারছে। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার কিছুই বলছে না, একেবারেই সরকার নীরব। কিন্তু নীরব কেন? কারণ, সরকারের কোমড় সোজা নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে তারা বুক ফুলিয়ে মিয়ানমারের গোলা নিক্ষেপের প্রতিবাদ করতে পারছে না। বিশ্ব জনমতকে কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। তাই সরকারকে উদ্দেশ করে বলছি, এখনও সময় আছে পদত্যাগ করুন। পদত্যাগ করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন, সংসদ বিলুপ্ত করুন। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে নতুন সরকার ও সংসদ গঠন করতে হবে।
দেশবাসীকে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আহ্বান জানাব সকল রাজনৈতিক দলকে, সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে এবং দেশপ্রেমিক মানুষকে বলব একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আসুন আমরা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিএনপির চলমান কর্মসূচী পালনকালে দলের যে সকল নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিন। আমরা তাদের মুক্তি দাবি করছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হয়েছে। আমাদের এই আন্দোলন সাধারণ মানুষের চাল-ডাল-তেলের দাম কমানোর জন্য, দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য, আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে ভোটের অধিকার রক্ষার করার জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তাদের পেটুয়া বাহিনী নামিয়ে দিয়েছে। ওরা হত্যা করেছে ভোলার ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে ও নারায়গঞ্জের যুবদল নেতাকে। শনিবার রাজধানীর বনানীতে কর্মসূচী পালনকালে আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ কয়েকজনকে আহত করেছে, কুমিল্লায় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুকে আঘাত করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। দেশের মানুষ যখন তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছে তখন তারা সন্ত্রাস, হত্যা, সভা প- করার মধ্য দিয়ে দেশে তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। যাতে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে সহজ হয়। আজকেও (রবিবার) বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের লোকেরা সন্ত্রাস করেছে। আমাদের সভা-সমাবেশ করতে বাধা দিয়েছে। আমি সরকারের উদ্দেশে বলতে চাই, এসব করবেন না। এভাবে দেশের মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না, দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে আপনাদের পরাজিত করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে হাত তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের এই অকর্ম আর বেশি দিন সহ্য করা যাবে না। মানুষ ফুঁসে উঠেছে, তাই রাজপথে নামতে চাই। আমরা এই মুহূর্তে মারামারির জন্য প্রস্তুত নই। কিন্তু আমাদের নেতাদের ওপর অপ্রস্তুত অবস্থায় হামলা করা হচ্ছে। সোমবার রাজধানীর সবুজবাগে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়েছি, এটা আমার এলাকা। অনুমতি দিলে এক জায়গায় সমাবেশ হবে। আর অনুমতি না দিলে একশ’ জায়গায় হবে। তাই সেখানে কিছু ঘটলে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে প্রশাসনকে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মশিউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, দলের নেতা আজিজুল বারী হেলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, কামরুজ্জামান রতন, শিরিন সুলতানা, মীর নেওয়াজ আলী, সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, দলের নেতা নবী উল্লাহ নবী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না প্রমুখ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক গণঅধিকার'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyganoadhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দৈনিক গণঅধিকার'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দৈনিক গণঅধিকার | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT